লেখা লেখনি লেখনী লিখনি লিখনী
আমরা অনেকেই ‘লিখিত বিষয়’ বা ‘লেখা হয়েছে এমন’ অর্থে ‘লেখনি’ বা ‘লেখনী’-র প্রয়োগ করে থাকি যা অশুদ্ধ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘লেখনি’ বলতে কোনো শব্দ নেই। তবে ‘লেখনী’ শব্দটি অভিধানে বিদ্যমান। ‘লেখনী’ শব্দটি সংস্কৃত [√লিখ্+অন+ঈ] থেকে উদ্ভূত; বিশেষ্যে অর্থ: ১. যা দিয়ে লেখা হয়, কলম পেনসিল প্রভৃতি। ২. ছবি আঁকার তুলি। অতএব, স্পষ্টত ‘লেখা হয়েছে এমন’ অর্থে ‘লেখনী’-র প্রয়োগ অশুদ্ধ। কিন্তু আমরা ‘লিখিত বিষয়’ বা ‘লেখা হয়েছে এমন’ অর্থে ‘লেখন’, ‘লিখন’ অথবা ‘লেখা’-র ব্যবহার করতে পারি। এবার উপর্যুক্ত শব্দসমূহ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক।
ক. ‘লেখন’ শব্দটি সংস্কৃত [√লিখ্+অন] থেকে উদ্ভূত যার অর্থ বিশেষ্যে: ১. লিখন, অক্ষরবিন্যাস; ২. অঙ্কন; ৩. যা লেখা হয়েছে, লিখিত বিষয়; ৪. পত্র, চিঠি, লিপি।
খ. ‘লেখা’ শব্দটিও সংস্কৃত [√লিখ্+অ+আ (টাপ্)] থেকে উদ্ভূত। অর্থ বিশেষ্যে: ১. রচনা; ২. লিখন; ৩. হস্তলিপি; ৪. শ্রেণি; ৫. রেখা; ৬. চিহ্ন। আর বিশেষণে: লিখিত।
গ. অপর ‘লিখন’ শব্দটিও সংস্কৃত [√লিখ্+অন] থেকে এসেছে। বিশেষ্যে অর্থ হলো: ১. লিপিবদ্ধকরণ; ২. চিত্রন; ৩. অঙ্কন; ৪. লিখিত বিষয় (ললাটের লিখন); ৫. পত্র, চিঠি, লিপি (লিখন তোমার ধুলায় হয়েছে ধূলি, রবীন্দ্র)।
অতএব, ‘লিখিত বিষয়’ অর্থে ব্যবহার করুন ‘লিখন’, ‘লেখন’ কিংবা ‘লেখা’, ‘লেখনি’ কিংবা ‘লেখনী’ নয়। আমার লেখায় কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই উপযুক্ত সংশোধন-সহ আমায় জানাবেন। বাধিত থাকব।
ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসাবে প্রযুক্ত ‘লেখ (= √লিখ্+ অ)’ শব্দের অর্থ— লিখন, লিপি, লিখিত বিষয় প্রভৃতি। যে লিখে বা লিপিবদ্ধ করে সে-ই লেখক (√লিখ্+ অক)। লেখক শব্দের আরো অর্থ রয়েছে। যেমন— গ্রন্থরচয়িতা, লিপিকর, সাহিত্যিক, গ্রন্থকার প্রভৃতি। যেমন: হায়াৎ মামুদ একজন লেখক।
লেখা [√লিখ্+ অ + আ (টাপ্)] শব্দটি সংস্কৃত এবং বাক্যে একাধিক পদ হিসেবে প্রযুক্ত হয়। ক্রিয়া বিশেষণে ‘লেখা’ শব্দের অর্থ : লিপিবদ্ধ করা, রচনা করা, লিখিতভাবে অবহিত করা, আঁকা প্রভৃতি। বিশেষ্যে লেখা শব্দের অর্থ : রচনা, লিখন, হস্তলিপি, শ্রেণি, চিহ্ন, রেখা প্রভৃতি। বিশেষণে শব্দটির অর্থ লিখিত। অতএব, লেখা অর্থ লিপিবদ্ধ করার কাজও হতে পারে আবার লেখক যা লিপিবদ্ধ করেছে তা-ও হতে পারে। এটি নির্ভর করে শব্দটি বাক্যে, কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে তার ওপর। যেমন: শুভাষ বাবুর লেখা, লেখাগুলো পড়ে মজা পেলাম।
লেখনী (√লিখ্+ অন+ ঈ) সংস্কৃত শব্দ এবং বাক্যে বিশেষ্য পদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ কলম, পেন্সিল, ছবি আঁকার তুলি। এককথায় যা দিয়ে লেখা হয় সেটিই লেখনী। যেমন : শুধু দামি লেখনী দিয়ে লেখা হলে ওই লেখা দামি হয় না। দামি লেখা হতে হলে লেখায় মান থাকতে হয়।
তবে, লেখসামগ্রী এবং লেখনী এক নয়। লেখসামগ্রী বললে, লেখার কাগজ, কলম, পেন্সিল প্রভৃতি বোঝাবে। যাকে ইংরেজিতে ঝঃধঃরড়হবৎু বলা হয়। অর্থাৎ সকল ‘লেখনী’ লেখসামগ্রী কিন্তু সকল ‘লেখসামগ্রী’ লেখনী নয়।
সূত্র: কোথায় কী লিখবেন বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.